Sunday, February 19

সেতু


তোমার প্রজ্বলিত শিখা
আমার দ্বিধাতুর অন্ধকার
তুরীয় উন্মনা শরীর
নিশ্চল।
এই অনতিক্রম্য নদী—
না ভাটি
না উজান
ভেসে যায় ভোর-লহরি।
থেমে থেমে নিরুদ্দেশ 
তারারা তখন 
মাস্তুল থেকে ঝরেছে ।


অন্ধকার ও শিখার
মানব ও মৃত্তিকার 
বিপরীতে
দৃশ্যের ভেতরে 
তুমি, আলো,
এমন তীব্র দহন ধরে রাখো!

Wednesday, November 16

অপসৃতি

স্পষ্ট কোনো আকৃতি গড়ে ওঠেনি তখনো
অন্ধকারের শৈশবজুড়ে শিল্পের ধ্যান
নক্ষত্র রাত্রির অনুষঙ্গ আর চাঁদ দ্যুতিময়
যখন মলিন,
স্বাতী নক্ষত্র—মৃতপ্রায়,
উপমার খোঁজে কালো বেড়াল
আকৃতি নিচ্ছে জন্মের।
প্রবণতা ভবিষ্যতের পথেই হাঁটে;
বস্তুত, সময়ের সাথে তার সম্পর্ক অচেনা।

ঘড়ির ভেতরে দিন রাত
সন্ধ্যার মৃদু নিশ্বাস জন্মান্তরকাল
এইখানে জড়িয়ে গেছে যেন
অদ্ভুত রাত্রির সঙ্গে অদ্ভুত রাত্রির প্রণয়।


মীমাংসিত মৃত্যুর বিকল্প হও!
দেখ, আমাদের সন্ততিরা কাঁদছে।
আর, একটা ট্রেন
ছুটন্ত রয়েছে—আমাদের থেকে দূর থেকে দূরে
দূরে, দূরে ধাবমান।

Wednesday, November 2

সিমিলি


স্বরগত বিভূতি তোমার, আমি স্থির নৈঃশব্দ্য
এই মন্দির টেরাকোটা নামহীন নির্মাণ
তোমার শর কৃপাণ বুকে বিঁধে আছে।
জড়োসড়ো সূর্যের দিনে আমি প্রলম্বিত লয়
স্থিরচিত্র নয়
শরীরমগ্ন চৈতন্যের ছায়া।
মেঘ ও পারাবত যুগপৎ ভেসে যায়
সোনালি আকাশে;
আমি স্রোতচিহ্ন
রুপালি জলে ফেনায়িত শাদা।
তুমি রথ নিয়ে ছুটেছ স্বপ্নমৃগয়ায়;
তূণীর ছেঁড়া বিভঙ্গে
ছিঁড়েখুঁড়ে দিয়েছ হৃদয়।
বিবিধ দিন শোকচিহ্নগুলোর ওঠানামা, ঋতুর পর্যায়ক্রম
তোমাকে শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে যাওয়া অনিকেত জোছনায়।
মোহরের মতো উজ্জ্বল ঝরে যায় প্রান্তর সমুদ্র চন্দ্র মন্দির।
আমার নিবাস যে আকাশে তার গায়ে গায়ে নির্লিপ্তি নেমে আসে
যেন সেমেটারি থেকে ফিরে ক্লান্ত; বিকেলজুড়ে ঘুমিয়ে যাচ্ছে কন্যা।

Friday, October 28

আলাপ


নৈকট্যহেতু আমি দেখেছি—নবীনা, যেহেতু আগে দেখি নাই
আমাদের ভাষাহীন সংযোগের ভিতর ক্রমে বিচ্ছেদের
সম্ভাবনা লুকানোই ছিল, কৌতুকতার ভিতর,
তোমার আমার সমীপবর্তিতা, ফেরানো সলাজ হাসি
বহুদূর যায়...

সেই যৌথচিন্তার ভাষা ছিল না কোনো, একসঙ্গে
ধারণাগুলো ভেবে নিচ্ছিলাম আমরা:
তোমার অভিব্যক্ত মুখরেখায়, তোমার নীরবতার ভেতর
অনুচ্চারিত কথাগুলো যেন বেশি জরুরি—জরুরি, কিন্তু বিপর্যস্ত।
হারিয়েই তো যাচ্ছে সে সব...

মনে হয়, এরকমই ঘটে। তোমারও কি মনে হয় না,
সন্ধ্যার খানিক ফুল, ফুলের মতোই তাকিয়ে থেকে ঝরে যায়?

Monday, August 15

যেখানে, নেই


এক একটা দিন রাস্তাগুলো বহু দূরে চলে যায়, সময়ের সাথে দূরত্ব সম্পর্কে আমাদের অভিজ্ঞতা অর্থহীন মনে হয় যেহেতু রাস্তা ক্রমশ আরো আরো রাস্তার দিকেই যায় অন্ধকার ও আলোর দ্ব্যর্থহীন বিরোধের কথা মনে রেখে

হেঁটে যেতে যেতে আমি রাত্রির নিরপেক্ষতার কথা ভাবি, তার সহনশীল শীতল আচরণ আমাকে কতটা ব্যথিত করে এইরকম সময়ে, যখন আর কিছু নিয়েই ভাবছি না, পায়ের পর পা পড়ছে রাস্তায় আর দূরত্ব ক্রমে দূরে দূরে সরে যাচ্ছে, কিংবা যখন এ-বছরকার ফেব্রুয়ারি শেষে ক্ষণকালীন বসন্ত যেভাবে আসলো এবং চলেও গেল, তার বাতাসের ধূলিমুখর সংবেগ কোথায় ফেলে রেখে, তার খোঁজ রাখা হলো না

আমি অনুভব করি স্থিতির অপর্যাপ্ত কাল অথবা সময়হীনতার দীর্ঘ সেতু পেরিয়ে মুহূর্তের যে সম্ভাবনা রচিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত আমি তার কিছুই স্পর্শ করতে পারি না, শুধু মনে হয় সকল রাস্তা-ই বহূ দূরে দূরে চলে যায় সম্প্রসারণশীল শূন্যতার মতো দূরবর্তী নক্ষত্রের রাতে, আমি যার বহু পেছনে পড়ে থাকি; নিত্য-অতীতে আমি যেন রক্তমাংসের গতকাল

Monday, August 8

ভাসমান


স্মৃতি নিয়ে কারা ঘুরে ঘুরে ঘুরে ঘুরে যায়
রাত্রির গভীর, সকাল থেকে বিকেল অবধি
উন্মীলিত ধোঁয়ায় ঘনিয়ে ওঠা বিস্মৃতির গহন থেকে
উঠে আসে এক একটা দিন।
কারা যায়, কারা আসে, 
কারা থেকে যায়...
কেবলই ধোঁয়া জমে আসে
সম্মুখ দৃশ্যাবলির ভিতর
আরো দূর ভাসমান বৃন্তচ্যূত জলজের মতো
আরো দূরপ্রবাহী অপেক্ষার ভরসার মতো 
কারা চলে যায়, যে যার মতো একা?

Sunday, July 24

রাতের অন্তর্লীনে

দীর্ঘ রাত্রিটির শরীর তোমাকে ছাড়িয়ে যেতে পারে আরো স্থায়ী আঁধারে
যেখানে মরালির একটিমাত্র পালক জলের কিনারে সকাল, টলমল।
অমানিশার শেষ ঘণ্টাধ্বনি থেমেছে কোথাও— এই স্থবিরতা কতকাল
দেখেছি একা। কখনো ভাবিনি এও এক ভাষা তার, তোমাকে জানাবার, এইসব সত্য
নীরবে বলা হয়ে গ্যাছে—সমস্ত শীতরাত্রির শেষে যেমন হিম থেকেই যায়; যত
আলোকিত হও—নগ্নতার নিরপেক্ষ বিভাব, যতো নির্জনে যাও—কোলাহল থেকে দূরে
তার চেয়েও গভীরে সন্তরিত মনের বিষাদ—একবার ছুঁয়ে দ্যাখো যদি পারো!
অস্পৃশ্য যা নয়, যা-কিছু মমতায় জেনেছো, স্নিগ্ধ হয়ে আছে বরফশীতল।
এই দেহ বহুকাল সময়ের ভেদচিহ্ন ভুলে বিরহে লীন হয়নি এখনও;
দূরত্ব, ভালোবাসে অন্ধকার। বাতাসের আর্দ্রতা বাড়ে। আমি রোদের আঁচে
উজ্জ্বলতর কোনো আগুনের কথা ভাবি—দিঘিতে আকাশ তবুও সবুজ পত্রালি
আর আমি জেনেছি রাত্রির মানে অনুপস্থিত সব রঙ আঁধারে মিশে থাকে একাকার।
© তারেক রহিম. ২০১২. Powered by Blogger.
© Absurd Dreams
Designed by: Maira Gall