Friday, March 11

উচ্চারণের আগে

বোবা দিনগুলি আসে, যায়
চলে যেতে আসে,
কিছু না বলে, কিছু না শুনে
যেতে হবে তাই চলে যায়


আমি এইসব নিয়ম বুঝি না


ব্যাখ্যাতীত অনুভূতিগুলো রক্তমাংশের গভীরে
নিশ্বাসের যে প্রেরণা
আমি ধারণ করে চলি তার মতো
সহজ।


এর কতটুকু মানুষের নিজের ভাষ্য আর কতটুকু ব্যর্থতা?

Thursday, January 20

সংশয়ে


ভেঙে যাচ্ছে ভেতরের প্রাচীন প্রাচীরসমূহ
হার্মাদ ঘোড়াদের পরিকল্পিত অগ্রসরতা
মাটি ও উপত্যকার বাতাসে
বিকেলের নিরপেক্ষ রোদ দেখে যাচ্ছে
আমার বিশ্বাস;
আমার স্বস্তি, সান্ত্বনা, আকাশ দেখার
টেলিস্কোপ আর আবশ্যিক অন্ধকার
মারা যাচ্ছে

আমাদের বিপন্ন ভেসে যাওয়া—
যখন বুক ভার করে দাঁড়াবে,
কিছু প্রাচীন পাহাড়
বর্ষায় তুমুল বৃষ্টি
বৃষ্টিপরবর্তী নীল সমুদ্রতট;

ঘোড়া ও প্রাচীর, ভাঙন ও স্রোতের নিবিড় সম্পর্কে
তুমি অবিশ্বাস করে যেও।

Tuesday, November 16

যে অন্তর্বর্তী

এই অবসর
বিড়াল দিন
শীতের নীলিমায় দলছুট পাখির
পথ হারানোর সুখ।

যদি কোনো নির্বাচিত পথ থাকে
যে পথ কোথাও নেবে না

আমার উষ্ণ বধির দিন
আমার কোমল ঊষার অন্ধকার
ঘাসের মলিন তুষার ছুঁয়ে
সমস্ত শহরকে ঢেকে যে আসে নির্জনে
অরণ্যের গান নিয়ে যে আসে
লোকালয় থেকে দূরের আহ্বান নিয়ে যে
নগরে আসে
বাঁশি হাতে,
যে বাঁশি বাজে না, শুধু বাজাতে জানে
পেশীর তন্তুতে কাঁপন তুলে তুলে
প্রাচীন মুদ্রায়
আমাদের বিড়াল দিনে
শ্বেতপাথরে রক্তচিহ্ন রেখে সোনালি রোদ
মর্মরে মরমীয়া আমার
তুলে নিও পাতা উড়ে যাওয়ার সুখ দুহাতে
আমার প্রলম্বিত আঙুলে দিও
তোমার ওষ্ঠমদিরা
আমি চুমুকে তুলে নেব সহস্র বছর
তোমার সাম্রাজ্য
তোমার অবসর

সেই পথে আমাকে নিও।
তোমার কণ্ঠহাড় আমাকে দিও।


১৮।০৯।২০১০

Friday, August 27

১৩।০৪।২০১০

আমি একদিন তোমাকেও ঠিক ভেঙে দিয়ে যাবো
এতো অবহেলা সইবো না।

আমার জন্মান্তর নেই
তাতে বিশ্বাসও নেই
আমি ততো ধৈর্য রাখতে পারবো না।

আমি ঈশ্বরকেও টুকরো টুকরো করে ভেঙেছি
দেখেছি বিশ্বাসের ভেতরে কাঁকড়,
গুঁড়ো গুঁড়ো হয়ে যায়।

তোমার ভেতরে কী আমার দেখতে ইচ্ছে করে।

তোমাকে আমার ছুঁয়ে দেখতে ইচ্ছে করে।
খুব ইচ্ছে করে।

Friday, October 23

ক্রান্তি শেষবেলার...

... প্রদক্ষিণ করে যাবে নিজস্ব মৃত্যুময় পথ তোমার বলয়ে
গ্রহাণুপুঞ্জ আমাদের স্মৃতিতে যেরকম ছিল একদা
মেঘমন্দ্রিত ভোর প্রবল উচ্ছ্বাসে ভেসে বেড়াবে আষাঢ়ের প্রথম আকাশে
ঠিক যতটা ধূসর হলে তারে বিষণ্ণ বলা যায়...
এখনো নিয়মিত বৃষ্টি হয় এখানে; ভালোবেসে জল হয় মেঘ দুপুর রাতে।

সকাল

সকাল, তোমাকে অভিবাদন জানাই
তোমার জন্য খুব যে উদ্গ্রীব ছিলাম তা নয়, হয়তো নিরাসক্তি-ই ছিলো
তবু কী প্রতীক্ষা আমাদের অভ্যস্ততায় মিশে আছে দেখো---
মনে হলো--- তুমি একটি দীর্ঘ রাত পার করে এলে।
কতোটা দীর্ঘ তা জানা নেই; আমার ঘরে কোনো ঘড়ি ছিলো না।
মাঝে মাঝে সময়হীন থাকতে ভালো লাগে। নিজেকে ঈশ্বরের মতো মনে হয়
আর তখন সবই ঘটে আমার ইঙ্গিতে, চাইলে রাতও গন্তব্যে পৌঁছায়, ভোর হয়।
আপাতত পাখিদের শব্দ শুনছি। প্রতি সকালে তা শোনার সুযোগ হয় না
প্রতি সকালে মেঘের বিন্যাস ভিন্ন। প্রত্যেক ভোরে মানুষ অন্য মানুষ।

অহর্নিশ ফেরার

এইসব সন্ধ্যা, রাত্রি, অলসঘুমের পড়ন্ত বিকেল, এইসব মানুষ ও লোকায়ত সময়
মনে হয় সবই বিগত জন্মের স্মৃতি-- কোনো এক দূর্বোধ্য কারণে ফিরে ফিরে আসে।
হন্তারক শব্দের আড়ালে আড়ালে আমাকে তাড়িয়ে বেড়ায় অবিরত যেখানে
অসময়ের মেঘেরা বিরহ কুড়োয়, যেখানে প্রাচীন মাঠের উদ্বাস্তু ঘাস ধূলোতে বাতাসে অন্তর্লীন।
এইখানে পথের বিস্তারে গতরাজ্যের শ্লোক; নিদ্রিত অভিমান আজ হৃৎপিন্ডের আনাচে কানাচে
এবং
ঘুমকাতর নিশিবনের আর্দ্র সজারু যেন বৃষ্টিশেষের স্নিগ্ধতায় অনিবার কাঁটা ছুঁয়ে দিচ্ছে...
© তারেক রহিম. ২০১২. Powered by Blogger.
© Absurd Dreams
Designed by: Maira Gall